‘রোনালদোকে বল দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই’
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জুন ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
চলতি বিশ্বকাপে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। মাঠের অফ-ফর্ম নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই নতুন গুঞ্জন উঠেছে, দলের সতীর্থরা নাকি মাঠে সিআরসেভেনকে ইচ্ছে করেই বল পাস দিচ্ছেন না! উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে এই বিতর্ক নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন পর্তুগালের ২৩ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার ফ্রান্সিস্কো কনসেইসাও।
জুভেন্টাসের এই তারকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠে শুধু রোনালদোর দিকেই বল বাড়াতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা দলের নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে কনসেইসাও বলেন, ‘গোল করার দারুণ ক্ষমতা আছে রোনালদোর।এদিক থেকে তার মতো আর কেউ নেই। তবে তাকেই বল পাস দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। মাঠে যে খেলোয়াড় ফাঁকায় থাকে, আমি তাকেই বল দিই।’
মাঠের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এই জুভেন্টাস তারকা আরও যোগ করেন, ‘মাঠে আসলে এত ভাবার সময় থাকে না, সতীর্থ কে সেটা দেখারও সুযোগ নেই। এটা কয়েক মিলিসেকেন্ডের ব্যাপার এবং আমরা নিজেদের মতো খেলি। অন্য সবার মতো রোনালদোও এখানে দলকে সাহায্য করতেই এসেছেন।’
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর থেকেই পর্তুগাল দলের ভেতরে একধরনের অস্থিরতা চলছে। সেই ম্যাচে গোল করা তরুণ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস ম্যাচ শেষে মন্তব্য করেছিলেন, ‘রোনালদোও অন্যদের মতো একজন। সে এখানে অন্যদের মতোই অবদান রাখতে এসেছে।’ সতীর্থের এমন মন্তব্য ফুটবলপাড়ায় বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়।
এই অস্থিরতার আগুনে ঘি ঢেলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভুয়া পোস্ট। নেভেসের প্রেমিকা ও অভিনেত্রী মাদালেনা আরাগাওয়ের নামে একটি ভুয়া মন্তব্যে লেখা ছিল, ‘তোমাদের গোটকে বলে দিও, সে খুব স্বার্থপর।’ ভুয়া এই পোস্টটি এতটাই ভাইরাল হয় যে, মেক্সিকোর একটি মূলধারার পত্রিকাও এটি প্রকাশ করে বসে।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই ভুয়া পোস্টটি সত্যি ভেবে সেখানে মন্তব্য করে বসেন খোদ রোনালদোর সঙ্গিনী জর্জিনা রদ্রিগেজ। ক্ষোভ প্রকাশ করে জর্জিনা লেখেন, ‘বাহ!! এই প্রজন্ম তো বেশ আগ্রাসী!!’
সব মিলিয়ে উজবেকিস্তান ম্যাচের আগে মাঠের পারফরম্যান্স, সতীর্থদের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুয়া খবর—সব মিলিয়ে পর্তুগাল শিবিরে এখন মাঠ এবং মাঠের বাইরের বিতর্ক সমানতালে চলছে।



