Logo
শিরোনাম :
বানিয়াচংয়ে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মুকুলকে শোকজ ! আসন্ন ইউপি নির্বাচন : কালিয়ারভাঙ্গায় আলোচনায় আছেন দেশী- প্রবাসী প্রার্থী বানিয়াচংয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শায়েস্তাগঞ্জে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ : নিহত ১ এস.আই আকবরকে ধরিয়ে দিলে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেবেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সামাদ মাধবপুরে এক প্রতিবন্ধী শিশুর লাশ উদ্ধার খোয়াই নদীর সীমানা নিশ্চিত করণ ও দখল-ভরাট উচ্ছেদের দাবীতে স্বারকলিপি প্রদান নবীগঞ্জের পানিউমদায় ছাত্রলীগের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত ইনাতগঞ্জের আছাবুরের নজর নৌকায় !

৩ দিনের রিমান্ডে ডা. সাবরিনা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট / ৩৩৪ বার পঠিত
জাগো নিউজ : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার (জেকেজি) গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগে ডা. সাবরীনার স্বামী জিকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফ চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

আজ সোমবার সকালে ডা. সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে চার দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীনুর রহমানের আদালত সাবরীনার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে ডা. সাবরীনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে জেকেজি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করোনা রিপোর্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। আমরা অভিযানে নেমে ওই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করি। ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ডা. সাবরীনা আরিফ। তাঁকে আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং রিমান্ড চাওয়া হবে।’

গত ২৩ জুন তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হাসানাত খন্দকার এনটিভি অনলাইনকে বলেছিলেন, ‘করোনা পরীক্ষার কথা বলে ভুক্তভোগী রোগীর সঙ্গে প্রতারণার  অভিযোগে জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ চৌধুরীসহ মোট ছয়জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। জেকেজির প্রজেক্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার নমুনা সংগ্রহ করত। এই নমুনা সংগ্রহের পর তা আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করত না। পরীক্ষা না করেই নিজেদের কম্পিউটার দিয়ে করোনার রিপোর্ট বানাত। এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছিল। পরে আমরা তাদের গ্রেপ্তার করি। তারা করোনা রোগীদের সঙ্গে দুই মাস ধরে এই প্রতারণা করছে।’

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আরিফ চৌধুরীর দাবি, তেজগাঁও কলেজে তাদের একটি করোনার বুথ রয়েছে। ওই বুথ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনুমোদিত। সেখানে তারা নমুনা সংগ্রহ করে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, এটার আদলে তারা জোবেদা খাতুন স্বাস্থ্যসেবা প্রজেক্টের নামে একটি পেজ খুলেছিল ফেসবুকে। সেখানে ফোন নম্বরও দেওয়া ছিল। ওই পেজ থেকে যেসব কল আসত, তাদের বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করত। যাদের নমুনা সংগ্রহ করত,তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রতি রিপোর্টের জন্য পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হতো। আর বিদেশিদের কাছ থেকে নিত ১০০ ডলার। অথচ কারো নমুনা পরীক্ষা না করেই তারা ইচ্ছেমতো নেগেটিভ-পজিটিভ বসিয়ে রিপোর্ট দিত।’

হাসানাত খন্দকার আরো বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা তাদের গ্রেপ্তার করেছি। গ্রেপ্তারের সময় তিন হাজার করোনা কিট, ৪০টি ভুয়া করোনার সনদ এবং তাদের কাছে থাকা চারটি ল্যাপটপ ও দুটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।’ এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ওই দিন মামলা করে।

গত ২৪ জুন জেকেজির গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ও ডা. সাবরীনার স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকেই সরকারি চিকিৎসক হয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে থাকা সাবরীনার নাম এবং জালিয়াতির তথ্য নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এ সময় একটি ল্যাপটপে ১৫ হাজার ভুয়া রিপোর্ট তৈরির আলামত পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

জেকেজি হেলথ কেয়ার থেকে ২৭ হাজার রোগীকে করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনা সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ জনের ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করা হয়, যা জব্দ করা ল্যাপটপে পাওয়া গেছে।

শুধু জেকেজি-ই নয়, দ্বিতীয় স্বামীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওভাল গ্রুপেরও চেয়ারম্যান ছিলেন ডা. সাবরীনা। আরিফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ওভাল গ্রুপের ওয়েবসাইট ডাউন পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ওভাল গ্রুপের ঢাকা এক্সপো-২০১৯ নামে একটি ওয়েবসাইটে ডা. সাবরীনা চৌধুরীকে ওভাল গ্রুপের চেয়ারম্যান পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেখানে ১১ বার চেয়ারম্যান হিসেবে তার নাম লেখা হয়েছে। ওভাল গ্রুপের প্রোফাইলেও চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছে সাবরীনার নাম।

এদিকে, গতকাল ডা. সাবরীনার বক্তব্য জানতে তার কর্মস্থল রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে গেলে তিনি প্রথমে হাসপাতালের পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি। এক পর্যায়ে সাবরীনা উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি জেকেজি হাসপাতালের চেয়ারম্যান নই। আপনারা আগে কাগজ দেখান, তারপর আমার ব্যাখ্যা চান। এছাড়া, লক্ষবার প্রশ্ন করলেও আমি কোনো উত্তর দিব না।’

পরে তিনি আবার দাবি করেন, ‘জয়েন্ট স্টকে আপনারা খবর নেন। আমি কোনো কোম্পানির চেয়ারম্যান নই। আমি জেকেজির স্বাস্থ্যকর্মীদের আমি ট্রেনিং দিতাম। আমি শুধুর ট্রেনিং সেন্টার পর্যন্ত যেতাম।’

হাসপাতালের সাইবোর্ডে তার নামের শেষে এখনও জেকেজি হাসপাতালের গ্রেপ্তারকৃত প্রধান নির্বাহী আরিফ চৌধুরী নামের শেষাংশ যুক্ত আছে এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমনও তো হতে পারে এটা আমার আসল নাম না। ফেসবুকীয় নাম। এটা এখনও পরিবর্তন করা হয়নি। দ্রুতই করব।’

এক পর্যায়ে কাঁদতে কাঁদতে সাবরীনা বলেন, ‘কোনো কিছুর মালিক না হয়ে এতটা…. আমি শিকার হচ্ছি, এটা কী মনে করেন আপনারা এবং আমি জানি, আমি কোনো অনৈতিক কাজ আজকে কেনো জীবনেও করিনি। আমি এ বিষয়ে কনফিডেন্ট।’


অন্যান্য সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com
error: কপি করা নিষেধ !
error: কপি করা নিষেধ !