মফস্বল সাংবাদিকতার বাতিঘর ও সফল উদ্যোক্তা: এক নির্ভীক পথচলার গল্প
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ জুন ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
মফস্বল সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজের অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়ার এক মহান ব্রত। এই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পথকে ভালোবেসে যিনি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ অঞ্চলে নিজের এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন, তিনি সাংবাদিক মোহাম্মদ সুমন আলী খাঁন। কেবল খবরের পেছনে ছুটে চলা একজন সংবাদকর্মীই নন, তিনি একাধারে একজন সফল ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং দায়িত্বশীল পারিবারিক ব্যক্তিত্ব।
সাংবাদিকতার শুরু ও সরব উপস্থিতি:
মোহাম্মদ সুমন আলী খাঁনের গণমাধ্যমে পথচলা শুরু হয় ২০১৫ সালে। হবিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক বিবিয়ানা’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে তিনি তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের খাতা খোলেন। মাঠপর্যায়ের নানা চড়াই-উতরাই পার করে তিনি তাঁর বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে স্থানীয় মহলে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।

ছবি: সাংবাদিক ও সফল উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সুমন আলী খাঁন
এরপর থেকে তিনি স্থানীয়, আঞ্চলিক, জাতীয় এবং সমসাময়িক অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যমে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। সমাজের নানা অসঙ্গতি, অপরাধ ও জনদুর্ভোগের চিত্র যেমন তাঁর কলমে উঠে এসেছে, তেমনি তৎকালিন ‘দৈনিক সিলেটের দিনকাল’ পত্রিকার নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ও দৈনিক হবিগঞ্জের সময়’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এবং ‘নবীগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিক ফোরাম’-এর প্রচার সম্পাদক হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন।
বিশেষ উক্তি:
“কলম আমার সমাজের কথা বলে, আর ব্যবসা আমার জীবনের সততা ও স্বনির্ভরতার প্রতীক। সাংবাদিকতা ও ব্যবসার এই মেলবন্ধনেই আমি মানুষের সেবা করে যেতে চাই।”
— মোহাম্মদ সুমন আলী খাঁন
উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ: দেবপাড়া বাজারের সফল ব্যবসায়ী
সাংবাদিকতা শুরুর আগে ২০১৩ সালের শেষের দিকে তিনি ছিলেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তখন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ভূমিহীন বাজার। তার সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২০১৪ সালের শেষের দিকে এবং ২০১৫ সালের শুরুতে একদল ডাকাত রাতের অন্ধকারে দোকানের তালা ভেঙে দোকান লোটপাট করে সবস্ত মালামাল নিয়ে যায়। এরপর তিনি অনেকটা ভেঙে পড়লেও ব্যবসার নেশা তাকে ছাড়েনি। তারপর তিনি তার নিজ এলাকা উপজেলার দেবপাড়া বাজারে আবারো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করেন কিন্তু সেখানে তিনি তেমন সফলতার মূখ দেখতে না পাওয়ায় প্রবাস জীবনে পাড়ি জমানোর দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরবর্তিতে তিনি প্রবাসে না গিয়ে সাংবাদিকতা পেশাকে আপন করে নেন।
মফস্বল সাংবাদিকতায় টিকে থাকার লড়াইটা সহজ নয়:
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে সারা বিশ্ব কার্যত লকডাউনে চলে যায়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই পরিস্থিতিকে বিশ্বব্যাপী মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে। এই অভূতপূর্ব দুর্যোগের কারণে পুরো বিশ্বের জীবনযাত্রা থমকে যায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তখন তিনি তার জীবনে বড় ধরণের ক্ষতির মূখে পড়েন এবং নিজেকে স্বচ্চল করতে নিজ এলাকা থেকে ঢাকার নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা এলাকার নয়ামাটি এলাকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে কিছুদিন দেশের নামী-দামী শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। কিন্তু সেখানের নোংরা পলিটিক্স এর কারণে সেখানেও স্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এরপর পাগলা হাই স্কুল সংলগ্ন ‘মনোয়ারা লাইব্রেরি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে অতি সুনামের সহিত কাজ করতে শুরু করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ জাকির হোসাইন মাসুদ তার চাল-চলন এবং ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তাকে আপন ভাইয়ের ন্যায় আপন করে নেন এবং দীর্ঘদিন কাজ করেন। ২০২১ সালের ১৩ই আগস্ট তার সন্তান আরিয়ান মালিক খাঁন জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হলে তিনি তার নিজ এলাকায় ফিরে এসে আবারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন এবং বাস্তবতাকে জয় করতে সুমন আলী খাঁন নিজেকে আবারও একজন স্বাধীন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া বাজারে গড়ে তুলেছেন ‘আব্দুল মন্নাফ কম্পিউটার্স’ এবং একই বাজারের সুলতান ম্যানশন-৪-এ ‘আব্দুল মন্নাফ টেলিকম’ নামের দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান।

ছবি: সুলতান ম্যানশন-৪, দেবপাড়া বাজারে অবস্থিত আব্দুল মন্নাফ টেলিকম
অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি এই প্রতিষ্ঠান দুটির স্বত্বাধিকারী ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সহজ কিস্তিতে শতভাগ অরিজিনাল ও অফিশিয়াল স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। ব্যবসার চরম ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সাংবাদিকতাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।
পারিবারিক জীবন ও নতুন আশার আলো:
ব্যক্তিগত জীবনে মোহাম্মদ সুমন আলী খাঁন এক সন্তানের গর্বিত পিতা। ২০২১ সালের ১৩ আগস্ট, শুক্রবার পবিত্র জুম্মার আজানের কিছু সময় পূর্বে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আদ-দ্বীন হাসপাতালে জন্ম নেয় তাঁর একমাত্র পুত্রসন্তান আরিয়ান মালিক খাঁন। সন্তান ও পরিবারকে ঘিরেই তাঁর সমস্ত কর্মব্যস্ততা এবং আগামীর সুন্দর স্বপ্ন।
মোহাম্মদ সুমন আলী খাঁন তাঁর লেখনী এবং কর্মের মাধ্যমে তার এলাকার মানুষের মাঝে এক আস্থার নাম। সাংবাদিকতা ও ব্যবসার এই যুগলবন্দীতে তিনি আরও বহুদূর এগিয়ে যাবেন, এটাই স্থানীয় সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।



