Logo
শিরোনাম :

বিমানবন্দরে র‌্যাপিড পিসিআর টেস্টে আটকে আছে আরব আমিরাত প্রবাসীদের ভাগ্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
জাগো নিউজ : মঙ্গলবার, আগস্ট ২৪, ২০২১

দীর্ঘদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী কয়েক হাজার বাংলাদেশি। দেশটির নতুন শর্তের কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন তারা। আমিরাত নিয়ম করেছে- ফ্লাইটের ৬ ঘন্টার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে র‌্যাপিড পিসিআর টেষ্ট করে করোনা নেগেটিভ রিপোর্টপ্রাপ্তদেরই কেবল তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে র‌্যাপিড পিসিআর টেষ্টের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন আরব আমিরাত প্রবাসীরা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৪ এপ্রিল থেকে ভারত সঙ্গে ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা দেয় সংযুক্ত আমিরাত সরকার। এরপর ১৩ মে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা থেকে যাওয়া ফ্লাইটের ওপর। পরে ৪ আগষ্ট বাংলাদেশসহ ছয় দেশের যাত্রীদের ট্রানজিট সুবিধা চালু করে ইউএই। তবে বাংলাদেশ থেকে কেউ সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ করতে পারবেন না।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে পৃথক পৃথক তালিকা করে বিভিন্ন শর্ত ও নির্দেশনা দিয়েছে আরব আমিরাত। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, আফিগানিস্তান. শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, নেপালকে একটি তালিকায় রেখেছে আরব আমিরাত। এদেশগুলোর জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে ফ্লাইট ছাড়ার ৬ ঘন্টার মধ্যে র‌্যাপিড পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্টপ্রাপ্ত যাত্রীরা আরব আমিরাতে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে তারা আরব আমিরাতে প্রবেশ করার পর আবার ২য় দফা করোনা টেষ্ট করা হবে।

এদিকে দেশের আন্তজার্তিক বিমানবন্দরগুলোতে র‌্যাপিড পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে আরব আমিরাত প্রবাসীরা। এ দাবি জানিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে মানববন্ধন করেছেন তারা। এছাড়া, প্রবাসীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যায়ল, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রনালয়েও দিয়েছেন স্মারকলিপি। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের জন্য আবারও মাঠে নামার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

প্রবাসীরা বলছেন, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় কমপক্ষে ৬ হাজার প্রবাসী সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে যেতে পারেননি। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। যারা দেশটিতে চাকরি করেন, তারা কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। যাদের ব্যবসা রয়েছে তারাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আরব আমিরাত বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকার রেখেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে, ফলে এই তালিকা থেকে সরিয়ে প্রবেশের অনুমিত যেন সহজ করা হয়- এমন কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। একটি ল্যাব স্থাপন ব্যয়বহুল, এছাড়া এটি পরিচালনার ও ব্যবস্থাপনার জন্যও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। ফলে হুট করে ল্যাব স্থাপন করার পর আরব আমিরাত ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশকে না রাখলে এসব ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।’

আরব আমিরাত প্রবাসী প্রকৌশলী এস এম মহিউদ্দিন বেলাল রনি বলেন, ‘প্রায় ৭০০০ প্রবাসী ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, অনেকর হওয়ার পথে। শুধু মাত্র দুবাই সরকার ভিসার মেয়াদ বাড়ালেও, অন্য রাজ্যগুলোতে ভিসার মেয়াদ বাড়ায়নি। ফলে অনেক প্রবাসীদের ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের কাছে একটি দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে সরকারিভাবে ল্যাব স্থাপন করা হয়।’

আরেক আমিরাত প্রবাসী জিয়াউল কাদের বলেন, ‘এ নির্দেশনা আসার পর ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে তাদের বিমানবন্দরে র‌্যাপিড পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে ফেলেছে। এই দুই দেশের প্রবাসীরা কাজে ফিরে যাচ্ছেন। অথচ আমাদের দূর্ভাগ্য- আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে, দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। কয়েক হাজার প্রবাসী বেকার হয়ে পড়বে, দেশের রেমিট্যান্স আসবে না, এই বিষয়টি বিবেচনা করার মতো কেউ নেই সরকারের!’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সারওয়ার আলম বলেন, আরব আমিরাত প্রবাসীদের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরে র‌্যাপিড পিসিআর টেষ্টের ব্যবস্থা করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসও এবিষয় নিয়ে কাজ করছে। আমরা আশা করছি, এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ে সমাধান আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ
ThemeCreated By ThemesDealer.Com
x
error: কপি করা নিষেধ !
x
error: কপি করা নিষেধ !