Logo

নবীগঞ্জ পৌর নির্বাচন : আ.লীগ-বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

ছনি চৌধুরী
জাগো নিউজ : শুক্রবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

আর মাত্র ১ দিন বাকী। আজ দিনগত রাত পোহালেই সকাল ৮ টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। গতকাল রাত ১২ টার পর প্রার্থীগণের প্রচারনা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন চলবে হিসেব নিকেশ। বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের মনজয় করতে নানা ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নবীগঞ্জ পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১৮ হাজার ৮৭৭ জন ভোটার। ১০টি ভোট কেন্দ্রে মোট ৪৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচনে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচন কমিশন বলছে- অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিবেন তাঁরা। নবীগঞ্জ পৌরবাসী শহরের যানজট সমস্যা সমাধান, ড্রাম্পিং স্টেশন স্থাপনসহ পৌর নাগরিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে এমন ব্যক্তিকেই পৌরসভা মেয়র নির্বাচিত করতে চান ভোটররা। নির্বাচনে মেয়র পদে ৩জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন, নবীগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছাবির আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ), আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুল আলম সুমন (জগ)। জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কে হচ্ছেন আগামী ৫ বছরের জন্য পৌর পিতা তা নিয়ে পৌরসভা ছাড়াও আলোচনা গড়িয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামগঞ্জে।

সম্প্রতি আওয়ামীলীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাপ ছড়িয়েছে নবীগঞ্জের রাজনীতির মাঠে । আওয়ামীলীগের পথসভা শেষে পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে আওয়ামীলীগ। তবে বিএনপি এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবী করেন নেতাকর্মীদের হয়রানীর উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা সাজানো হয়েছে। মেয়র পদে ৩জন প্রার্থীই হেভিওয়েট । যার যার মতো করে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তিন মেয়র প্রার্থী।

ভোটের সমিকরণ বলছে- পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর জামাতা ও আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন নৌকার প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী। ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন- বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় তাই আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী নির্বাচিত হলে নবীগঞ্জ পৌরসভায় বিগত সময়ের চেয়ে বেশি উন্নয়ন সাধিত হবে।

অপরদিকে শ্রমিক নেতা ও মৎসজীবী নেতা হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুল আলম সুমন। পরিবহণ শ্রমিক ও মৎসজীবী সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ তাকে বিজয়ী করতে একাট্টা হয়ে কাজ করছেন।

অন্যদিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বর্তমার মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী। বিএনপির ভোট ব্যাংক নিয়ে মাঠে সরব রয়েছে তিনি। বিগত ৫ বছরের উন্নয়নে সন্তুষ্ট হয়ে পুনরায় তাকেঁই বিজয়ী করবে বলে আশাবাদী বিএনপির নেতাকর্মীরা। ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন- বিভিন্ন শালিস-বিচারসহ পৌরসভার নাগরিকদের সমস্যা সমাধানে ছাবির আহমদ চৌধুরীকে সবসময় পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে নিরবে ভোটের বিপ্লব ঘটাতে পারেন বিএনপির প্রার্থী ছাবির।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বর্তমান মেয়র ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন- বিগত ৫বছর নবীগঞ্জ পৌরসভায় যে উন্নয়ন হয়েছে সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকে পুনরায় জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে আমি আশাবাদী।

আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী বলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন করছে, সরকারের চলমান উন্নয়নে শরিক হতে নবীগঞ্জ পৌরবাসী নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শ্রমিক নেতা মাহবুবুল আলম সুমন বলেন, আমার অবস্থান থেকে বিগত দিনে আমি জনগণের জন্য কিছু করতে পারিনি, তবে ভোটারদের কাছ যে পরিমাণের সাড়া পাচ্ছি আমি আশাবাদী নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাকে পৌরবাসী ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

আগামী ১৬ জানুয়ারি শনিবার নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১০টি ভোটকেন্দ্রের মোট ৪৮ টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ
ThemeCreated By ThemesDealer.Com
error: কপি করা নিষেধ !
error: কপি করা নিষেধ !