Logo
শিরোনাম :
পাঁচ হাজার বন্যার্তদের মুখে খাবার তোলে দিল ‘ইউনাইটেড নবীগঞ্জ’ বাংলাদেশে স্বপ্নের পদ্মা সেতু’র উদ্বোধন, গ্রিসে উদযাপন করল দূতাবাস নবীগঞ্জে বন্যার পানিতে ভেসে আসলো যুবকের লাশ পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে নবীগঞ্জ থানার আনন্দ র‌্যালী শ্রেষ্ঠ হিসেবে শুদ্ধাচার পুরস্কারে জন্য মনোনীত হলেন নবীগঞ্জের ইউএনও শেখ মহিউদ্দিন নবীগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে আব্দুর রহমান ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তা প্রদান দেশে বন্যায় মানুষ কষ্টে আছে : সরকার পদ্মাসেতু উদ্বোধনে আমোদ-ফুর্তিতে ব্যস্ত-ড. রেজা কিবরিয়া ‘শুকনো জায়গায় মাকে কবর দিও’ নবীগঞ্জে উল্টে গেলো বন্যার্তদের খাদ্যবাহী ট্রাক নবীগঞ্জে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বন্যা : শতাধিক গ্রাম প্লাবিত : সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান

‘শুকনো জায়গায় মাকে কবর দিও’

ছনি চৌধুরী, সুনামগঞ্জ থেকে ফিরে
জাগো নিউজ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২

চারদিকে অথই পানি। কোথাও লাশ দাফন করার মতো শুকনো জায়গা নেই। নিরুপায় হয়ে মায়ের লাশ কলার ভেলায় ভাসিয়ে দিয়েছেন ছেলে। কিন্তু দাফন তো হতে হবে মায়ের। তাই তিনি দাফনের আকুতি জানিয়ে মায়ের লাশের সঙ্গে চিরকুট লিখে দেন। তাতে লেখা– ‘শুকনো জায়গায় মাকে কবর দিও’। ভেলায় লাশ ভাসিয়ে মৃতের পরিবারের সদস্যরা নীরবে চোখের জল ফেলেন। তাদের আশা, কোনও সহৃদয় ব্যক্তি লাশ পাওয়ার পর দাফনের ব্যবস্থা করবেন।

রবিবার বন্যাদুর্গত সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায় এমন হৃদয়-বিদারক ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাওর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি কাশমির রেজা।

এদিকে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার আরও একটি ঘটনার কথা জানিয়েছেন তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ। তিনি বলেন, ‘নয় নগর গ্রামের রেণু মিয়ার দুই বছরের ছেলে আলামিন বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়। শুকনো জায়গায় কবর দিতে না পেরে মা-বাবা পানিতে ছেলের লাশ ভাসিয়ে দেন।’

হাওর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, ‘রবিবার সকালে আমরা একটি সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর এলাকার টাঙ্গুয়ার হাওরে সারাদিন ঘুরে ত্রাণ বিতরণ ও বন্যার চিত্র পরিদর্শন করি। আমাদের নৌকা বিশ্বম্ভরপুর হাওরের ভাতের টেক আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সেই দৃশ্য চোখে পড়ে। আত্মীয়-স্বজন কলার ভেলায় করে একটি লাশ পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন! সেই লাশের সঙ্গে একটি চিরকুট দেওয়া হয়েছে। তাতে মায়ের লাশ দাফনের জন্য ছেলে আকুতি জানিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাওরে অমানবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মানুষ দাঁড়ানোর মতো এক ইঞ্চি শুকনো জায়গাও নেই। এর মধ্যে দুর্গত অনেক এলাকায় এখনও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি। মধ্যনগর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, শাল্লা এলাকা খুবই দুর্গত। ওইসব এলাকায় যাতায়াত খুবই কষ্টকর, তাই লোকজন সেখানে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন না। আর একশ্রেণির নৌকার মাঝি সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা এক হাজার টাকার জায়গায় ১০ হাজার টাকা নিচ্ছেন। ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ নৌকার মাঝিদের নৈরাজ্য দূর করতে প্রশাসনের তদারকি বৃদ্ধি করা জরুরি।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাবিউর রহিম জাকির বলেন, ‘আমার উপজেলার ৯০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখানে কবরস্থানগুলো তলিয়ে গেছে। লাশ দাফনে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এটাই স্বাভাবিক।’

তাহিরপুরের ইউএনও মো. রায়হান কবির বলেন, ‘আমার এলাকায় সবকটি ইউনিয়ন ও গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কবরস্থানগুলো তলিয়ে গেছে। লাশ দাফন না করে ভাসিয়ে দেওয়ার তথ্য আমাদের কাছে নেই।’ তবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com
x
error: কপি করা নিষেধ !
x
error: কপি করা নিষেধ !