Logo
শিরোনাম :
প্রাইভেটকার ও পিকআপের সংঘর্ষ : দাদা-নাতি নিহত মেয়েকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ মামলা: ১২ বছর পর উদ্ধার হবিগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ১২ কোটি টাকা সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রাসহ আটক ১ নবীগঞ্জ কলেজে শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাৎ : ফেঁসে যাচ্ছেন অধ্যক্ষসহ ১৮ জন ম্যাসেজ নিয়ে জটিলতা : নেই বিভ্রান্তি : দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করছেন সাধারণ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ না নিয়েও ৮৫৮ জন পেলেন টিকার সনদ নবীগঞ্জে দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ না করে সনদ গ্রহণ ! বাল্যবিয়ে : ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পালালেন কনের মা-বাবা সিলেট-৩ আসনে উপ-নির্বাচন : বেশিরভাগ কেন্দ্র ফাঁকা

বৃক্ষরোপণ করে প্রধানমন্ত্রীর পুরষ্কার পেলেন জোহরা মমতাজ

ফাইজা রাফা
জাগো নিউজ : বুধবার, জুন ৯, ২০২১

তিনি একজন গৃহিনী কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং কঠোর পরিশ্রম তাকে এনে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পুরষ্কার। বর্তমানে বাংলাদেশের নারীরা অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছেন। কেউই পিছিয়ে থাকতে চায় না ৷ জীবনে কিছু করতে চান ৷ নিজের পরিচয় বানাতে চান। বর্তমান ডিজিটাল জগতে এখন অনেক নারী আছেন যারা ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিজেকে নারী উদ্যোক্তা হিসাবে করে গড়ে তুলেছেন। অনেকেই অনলাইনে বিজনেস করে জীবনে সফলতা অর্জন করার চেষ্টা করছেন।

শুধু ডিজিটাল জগতে নয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীদের সাফল্যের জয় গান । পুলিশ ,আর্মি ,ডাক্তার, শিক্ষিকা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীদের অর্জন রয়েছে। জোহরা মমতাজ বেগম ঠিক তেমনিই একজন নারী। একজন গৃহিণী হয়েও পেয়েছেন বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরষ্কার ২০১৮ (বাড়ির ছাদে বাগান সৃজন শ্রেণিতে সিলেট বিভাগে প্রথম স্থান) । তার এই অর্জন সম্পর্কে জানতে কথা হয় মমতাজ আপার সাথে আমরা শুরুতেই জানতে চাই

তার এই সৃজনশীল চিন্তা ছাদ বাগান করার চিন্তা কিভাবে আসলো? প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুরস্কার পেয়ে কেমন লাগছে?

জোহরা মমতাজ বেগম বলেছেন, তার ছোটবেলা থেকেই গাছ এবং প্রকৃতির প্রতি অদম্য ভালোবাসা ছিল ৷ সেখান থেকে তার নিজের বাড়িতে ছাদ বাগান করার ইচ্ছা। ছোটবেলায় গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রকৃতি প্রেম থেকেই তিনি নিজের বাড়িতে ছাদ বাগান করেছেন। ছাদ বাগান করতে তার কঠোর পরিশ্রম এবং ইচ্ছাশক্তি সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে। তিনি বলেছেন, ইচ্ছা শক্তিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় জিনিস।

ইচ্ছিশক্তি এবং মনোবল যত বেশি, জীবনে ততই সফলতা পাওয়া যায়। তার ছাদ বাগানের গাছগুলোকে তিনি সন্তানের মত লালন-পালন করেন, যত্ন করেন , ভালোবাসেন ৷ তার এই ছাদ বাগান তৈরিতে পারিবারিক ভাবে অনেক সাপোর্ট পেয়েছেন তিনি। সবার সাহায্য সহযোগিতায় এবং নিজের ইচ্ছাশক্তি তিনি এই সৃজনশীল চিন্তা করতে পেরেছেন এবং তিনি সফলভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

২০১৪ সালে ছাদ বাগানের যাত্রা শুরু হওয়া ছাদ বাগানের আকৃতি ছিল ছোট্ট। ধীরে ধীরে এই বাগানের পরিসর বড় হয়েছে। তার বর্তমানে ছাদ বাগানে ১০/১২ টি বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ রয়েছে। ২০১৪ সালের ছাদ বাগানের যাত্রা শুরু হবার পর তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় তিনি দেখেন, বৃক্ষপ্রেমীদের প্রধানমন্ত্রী তরফ থেকে পুরস্কার গ্রহণের সংবাদ ৷ সেখান থেকে তাঁর আগ্রহ আরও বাড়ে এবং তিনি বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেন বন বিভাগের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে ছাদ বাগানের পরিধি আরো বড় করেন ৷

বন বিভাগ থেকে জোহরা মমতাজ বেগমের ছাদ পরিদর্শনে যান কর্মকর্তারা । পরিশেষে সবকিছু মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার এই অর্জন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ পুরস্কার পাওয়ার পরে তিনি অনেক খুশি এবং গর্ববোধ করেন। তার কাছে আরও আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে যে তার হাতে লাগানো গাছ যখন ফল দেখেন তখন মনটা আনন্দে ভরে উঠে ৷ নিজের যত্নে গড়া ফল যখন খেতে পারেন তখন আরো মনটা ভরে যায়।

জোহরা মমতাজ বেগম সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ঘরে যাদের সামান্য একটু জায়গা আছে তারা যেন বৃক্ষরোপণে আরো আগ্রহী হয়ে ওঠেন। শুধু বৃক্ষ রোপন করলে হবেনা এর পর্যাপ্ত যত্ন এবং তাকে পর্যাপ্ত ভালোবাসা দিতে হবে ৷ জীবনে ইচ্ছাশক্তি এবং মনোবল শক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

নাম: জোহরা মমতাজ বেগম
পেশা: গৃহিনী
অর্জন: বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরষ্কার ২০১৮ এ বাড়ির ছাদে বাগান সৃজন শ্রেণিতে সিলেট বিভাগে প্রথম স্থান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ
ThemeCreated By ThemesDealer.Com
error: কপি করা নিষেধ !
error: কপি করা নিষেধ !