Logo
শিরোনাম :
স্কটিশ পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশী এমপি নির্বাচিত হলেন নবীগঞ্জের ফয়ছল চৌধুরী ইফতারির জন্য নবীগঞ্জের শরিফাকে ‘হত্যা’, স্বামী-শ্বাশুড়ি আটক নবীগঞ্জ পৌরসভায় ১৫শ অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রী অর্থ সহায়তা বিতরণ বাউসা ইউনিয়নে ১৫শ মানুষের মাঝে ৪৫০ টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ আউশকান্দিতে ৫শ অসহায়দের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তা বিতরণ নবীগঞ্জের দীঘলবাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার নগদ অর্থ বিতরণ করলেন এমপি মিলাদ গাজী এক মুঠো হাসি’র উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি সম্পন্ন হবিগঞ্জ শহরে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে সরকারি সহায়তা প্রদান নবীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ও ২ প্রবাসীর ভূমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ ! নবীগঞ্জে মাদকের আস্তানায় ইউএনও’র অভিযান : ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

বিদ্যুৎহীন ৩৫ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা – ফাইজা রাফা

ফাইজা রাফা / ৪৪৯ বার পঠিত
জাগো নিউজ : বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০

১৭ নভেম্বর ২০২০, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও সিলেটের মানুষ তখন নানান কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত ৷ সবাই যার যার মতো করে ছুটে চলছেন , কাজ করছেন , কেউ হয়তো তখন টেরও পায়নি সিলেটের সামনে কত বড় বিপর্যয় নেমে আসতে চলেছে ৷ ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল দশটা ৷ হঠাৎ করে সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হঠাৎ করে আগুন ধরে যায়৷ দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে ৷ আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস ছুটে যায় ৷ ফায়ার সার্ভিস এবং দমকল বাহিনীর আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় ৷ কিন্তু কিন্তু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ৷

চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে খবর ৷ সিলেট কুমারগাঁও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লেগেছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে কিছুটা সময় লাগবে৷ দিন পেরিয়ে রাত হল বিদ্যুৎ আসেনি ৷ কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তৃপক্ষ আপ্রাণ চেষ্টা করছেন বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার জন্য কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ টা যে এত বড় ছিল দুদিনের মধ্যে সরবরাহ সচল করাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে ৷ যাইহোক তারা তাদের আপ্রাণ চেষ্টা করে ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ সিলেটে আংশিক কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে তারা সম্ভব হন ৷ ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হতে থাকে ৷ কিন্তু ১৭ নভেম্বর রাত ছিল এক অন্যরকম রাত ৷

সন্ধ্যার পর থেকে চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার ৷ কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না ৷ যাদের জেনারেটর এর ব্যাকআপ ছিল ঐ জায়গাগুলোতে কিছুটা আলো দেখা যাচ্ছিল ৷ তা ছাড়া পুরো সিলেট শহর জুড়ে ছিল অন্ধকার ৷ ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই ইত্যাদি বেড়ে যাবার শঙ্কা করা হয়েছিল কিন্তু সিলেটের পুলিশ অনেকটাই সজাগ ছিল এ ব্যাপারে। অন্ধকারকে নিবারন করার জন্য অনেকে অনেক ভাবে চেষ্টা করছিলেন ৷ কেউ মোমবাতি দিয়ে , কেউ হারিকেন জ্বালিয়ে , কেউ টর্চ লাইট ব্যবহার করে ৷ কিন্তু বিপত্তিটা ঘটে তখনই ৷ এই বিপদের দিনেও কিছু কিছু জায়গাতে দেখা গেছে মোমবাতি নিয়ে একটা ব্যবসা চলছে ৫ টাকার মোমবাতি ২০ টাকা ৩০ টাকা এভাবে করে বিক্রি হচ্ছিল ৷ একপর্যায়ে মোটামুটি অনেকগুলো দোকান থেকেই মোমবাতি প্রায় শেষ হয়ে যায় ৷ পানির জন্য যখন অনেকেই হাহাকার করছিলেন তখন অনেকেই নামেন পানির ব্যবসা ৷
মোবাইলের চার্জ যখন মানুষের ফুরিয়ে যাবার পথে তখন অনেকেই চার্জের ব্যবসা নিয়ে বসেন ৷ জেনারেটরের ভাড়াও তখন দ্বিগুণ হয়ে যায় । এই সময়টাতে যখন মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা , সাহায্য সহযোগিতা করার কথা , সেটা যদি নাও পারে একে-অন্যের যখন মানসিক ভাবে পাশে থাকার কথা, তখন কিছু কিছু মানুষের ব্যবহার ছিল অত্যধিক খারাপ পর্যায়ে । কিছু কিছু ব্যবসায়ী নিজেদের লাভের স্বার্থের জন্য মোমবাতি, পানি ,মোবাইল চার্জ , ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এর দাম বাড়িয়ে দেন ।
এই দুর্যোগের দিনেও নিজেদের স্বার্থ হাসিল, অতিরিক্ত মুনাফা এবং লাভের আশা নিয়ে মেতেছিলেন । নৈতিক মূল্যবোধ / মানবিক মূল্যবোধ আজ কোন পর্যায় ? অপর পাশে যখন বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার জন্য ৪০০ কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন ৷ সে সময় কিছু মানুষ বলে বসেন “আমরা কি বিদ্যুতের বিল দেইনা ? সারারাত ধরে কারেন্ট নাই বিদ্যুৎ কি তোর বাপের ? কাজ করতে কি এতক্ষণ সময় লাগে ? আমাদেরকে শিখাও ? ” এধরনের মন্তব্য অনেকে করে বসেন ! অনেককে দেখলাম বিদ্যুতের জন্য আন্দোলন করেন ৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার দেখা গেছে মানবতার জয় ৷ অনেকে পানি দিয়ে , খাবার দিয়ে একে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন ৷ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটনা ঘটার দুই তিন ঘন্টার মধ্যে পুরো সিলেটে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লাগেছে ৷ ঐ সময় আমাদের অনেক কিছু করনীয় ছিল ৷ সে সময় যদি সাধারন জনগন একটু সচেতন ভাবে চলতো তাহলে সেই হাহাকারটা হতো না ৷ যেমন মোবাইল ফোনের কম ব্যবহার করে , মোবাইলের ব্রাইটনেস কমিয়ে , মোবাইলের পাওয়ার বাটন অন করে , এসকল কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে মোবাইলের চার্জ টা কিছুটা হলেও ঠেকানো সম্ভব হতো ৷পানির অপ্রয়োজনীয়’ ব্যবহার যদি বন্ধ করতেন তাহলে পানির জন্য এভাবে হাহাকার হতো না ৷

সে সময় আমি কি করেছি ? আমি যখন আগুন লাগার খবর পাই ৷ তখন পরিবার ও আমার আশেপাশের মানুষদের কে সচেতন করি ৷ যে কুমারগাঁও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লেগেছে ১/২ দিন কারেন্ট না আসার সম্ভাবনাই বেশি ৷তখন নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে মোবাইলের চার্জ পানির অপ্রয়োজনীয়’ ব্যবহার বন্ধ করি ৷ যেহেতু কিছু টা শীতের দিন যার কারণে গরম নিয়ে ভাবতে হয়নি ৷ যাইহোক ১৭ নভেম্বররের অন্ধকার রাত পার হয়৷ আমার যখন রাত্রে নিজেদের নিদ্রায় তখন ৪০০ কর্মী নিজেদের ঘুম ভুলে কাজে ব্যস্ত ৷ ১৮ নভেম্বরের দিনের শুরু ৷ বরাবরের মতো বিদ্যুৎ নেই ৷ সকলের মনে প্রশ্ন যে কবে কখন আসবে বিদ্যুৎ ? দুপুরের দিকে কিছুটা আশার বাণী শুনা যায় ৷ ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে কারেন্ট আসার সম্ভাবনা রয়েছে৷ সেই আশায় সকলের বুক বাধতে থাকেন সবাই ৷ বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী সন্ধ্যার পরেই কারেন্ট আসা শুরু হয় ৷ বিদ্যুৎ বিভাগ তারা তাদের কথা রাখেন এবং সন্ধ্যার মধ্যে কিছুটা বিদ্যুৎ সচল করতে সক্ষম হন । সিলেট বিভাগ আবারও আলোকিত হতে থাকে । বিদ্যুৎ আসার পর সকলের চোখে মুখে এক আনন্দের ছাপ ছিল । শহরজুড়ে যে হাহাকার ছিল তা অনেকটাই কেটে যায় । সকলেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন । কেউবা মোবাইল চার্জ দিতে কেউ বা পানি তুলতে । বিদ্যুৎ আসার পর জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে ৷ সকলেই শান্তি নিঃশ্বাস ফেলেন ৷ যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এত দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে তাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই ৷ এত বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর , ৩৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও আশার কথা হচ্ছে , এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি ৷ তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক ৷ আগুন লাগার কারন তা তদন্ত চলছে ৷ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমাদের সকলকে আরো দায়িত্বশীল এবং ধৈর্যশীল হতে হবে । কোন দুর্ঘটনায় ইচ্ছাকৃত বা কারো হাতে থাকে না ৷ দুর্ঘটনা ঘটলে ধৈর্য ধরাটা সবচেয়ে ভালো এবং সে সময় বুদ্ধি খাটিয়ে একটু চলাই উত্তম ।


অন্যান্য সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com
error: কপি করা নিষেধ !
error: কপি করা নিষেধ !