Logo
শিরোনাম :

প্রেমে বাধা দেওয়ায় মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা

করেসপন্ডেন্ট
জাগো নিউজ : সোমবার, আগস্ট ৩০, ২০২১

নাটোরে প্রেমে বাধা দেওয়ায় আরজু (২৭) নামে এক নৌকার মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার বাইজিদ বোস্তামী (১৮) হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তবে হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্য দুইজনকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। সোমবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এসব তথ্য জানান।

নিহত আরজু মাঝি সিংড়া উপজেলার চামারি ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের কদম আলীর ছেলে। অভিযুক্ত বাইজিদ গুরুদাসপুর উপজেলার বিলহরিবাড়ি গ্রামের নাছির বোস্তামীর ছেলে।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, আরজু মাঝির প্রতিবেশী এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে বাইজিদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে বাইজিদ ওই গ্রামে ঘন ঘন যাতায়াত শুরু করেন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আনন্দনগর গ্রামে বাইজিদ ও তার তিন বন্ধুর সঙ্গে আরজু মাঝির বাগবিতণ্ডা হয়। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত বাইজিদ জানিয়েছেন, মূলত প্রেমে বাধা দিয়ে তাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিশোধ হিসেবেই আরজু মাঝিকে তিন বন্ধু মিলে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।

পুলিশ সুপার জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চলনবিল ভ্রমণের জন্য কৌশলে ৭০০ টাকায় আরজু মাঝির নৌকা ভাড়া নেন অভিযুক্ত বাইজিদ ও তার বন্ধুরা। সন্ধ্যার পর আরজু মাঝি তার নৌকায় বাইজিদদের নিয়ে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ঘটনার রাতে নৌকাটি গুরুদাসপুর উপজেলার হরদমা বিলে পৌঁছালে নৌকা থামিয়ে বাইজিদ ও তার বন্ধুরা মিলে গাঁজা সেবন করে।

একপর্যায়ে বাইজিদের দুই বন্ধুর একজন আরজু মাঝির পা ও গলা ধরে রশি দিয়ে নৌকার সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এ সময় বাইজিদ আরজু মাঝিকে প্রেমে বাধা দেওয়ার কথা বলে। প্রতিশোধ হিসেবে আরজু মাঝিকে খুন করার কথা জানায়। এ সময় আরজু মাপ চেয়ে বাঁচার আকুতি জানান। তাতেও মন গলেনি অভিযুক্তদের। এ সময় ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। টাকা আসতে দেরি হওয়ায় বাইজিদের এক বন্ধু চাইনিজ কুরাল দিয়ে আরজু মাঝির মাথার পেছনে কোপাতে থাকে। এতে আরজু নিস্তেজ হয়ে পড়লে বাঁধন খুলে বিলের পানিতে তাকে ফেলে দেওয়া হয়।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা বিল থেকে পুলিশ আরজু মাঝির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা করে।

পুলিশ জানায়, সিংড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতারের নেতৃত্বে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত বাইজিদকে গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার অপর দুই বন্ধু পলাতক রয়েছেন।

এ বিষয়ে সিংড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতার বলেন, আরজু মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে আমরা নিশ্চিত হই এটা হত্যাকাণ্ড। নিহত আরজু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো তথ্য দিতে পারেন না। এজন্য আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা আসামি বাইজিদ বোস্তামীকে শনাক্ত করি। এরপর রাতভর অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয় স্বীকার করেছেন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ
ThemeCreated By ThemesDealer.Com
x
error: কপি করা নিষেধ !
x
error: কপি করা নিষেধ !