Logo
শিরোনাম :
নবীগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আ.লীগের সভাপতিসহ বহিষ্কার হলেন যারা… গ্রিসে দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশিদের জন্য রন্ধন শিল্পের ওপর মৌলিক প্রশিক্ষণ আলোচনায় বর্তমান ইউপি সদস্য আরজদ আলী লাল-সবুজ সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে পঞ্চম মেধা-বৃত্তি অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে তেলের লরি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ : নিহত ২ উৎসব মুখর পরিবেশে নবীগঞ্জের ১৩ ইউনিয়নে ৭১০ জনের মনোনয়ন দাখিল স্বাস্থ্যের ফাইল গায়েবের ঘটনায় তোলপাড় যুক্তরাজ্য বিএনপির সম্পাদকের শ্বশুড়কে মনোনয়ন দেয়ায় মানববন্ধন-বিক্ষোভ অব্যাহত হাজার হাজার মানুষের ভালবাসায় অশ্রুসিক্ত নয়নে মিয়া মোঃ ইলিয়াছের বিদায় যুক্তরাজ্য বিএনপির সম্পাদকের শ্বশুড় এওলা মিয়াকে মনোনয়ন দেয়ায় বিক্ষোভ

নবীগঞ্জ কলেজে কোটি টাকার হদিস নেই ॥ প্রশাসনের তদন্ত সম্পন্ন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
জাগো নিউজ : রবিবার, আগস্ট ২৯, ২০২১

নবীগঞ্জ সরকারি কলেজে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে বেতন ফি, ভর্তি ফিসহ বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও টাকা গায়েবের ঘটনায় অধ্যক্ষ ও কিছু অফিসের কর্মচারীদের নানা অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দেয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সম্পন্ন করেছে তদন্ত কমিটি।

গতকাল শনিবার (২৮ আগস্ট) তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত (১১ এপ্রিল) নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিনের বরাবর নবীগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক মোহাম্মদ আপনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীদের যৌথ স্বাক্ষরে একটি অভিযোগ পত্র দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগে বলা হয়, নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সফর আলী ও অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একাদশ শ্রেণীর ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ২য় বর্ষে ভর্তির জন্য ১৯০০ টাকা ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরও ১০০ টাকা আদায়, এই টাকা গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের কোনো রশিদ দেয়া না দেয়া, নাম-মাত্র অনার্সে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর ৪টি পরীক্ষা নেয়া এরজন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা ফি আদায়, কলেজের কম্পিউটার অপারেটর নয়ন মনি সরকার কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে অশুভ ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন কাজের জন্য তার কাছে শিক্ষার্থীরা গেলে কাজে করে দেয়ার নামে টাকা আদায় করেন। এর বাহিরেও উপবৃত্তির আবেদনে ১০০ টাকা বা তার অধিক টাকা গ্রহণ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে অধ্যক্ষ ও কর্মচারীদের অপসারণের দাবী জানানো হয়। অপরদিকে ১২ জন শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম হচ্ছে এর ফলে প্রাপ্ত বেতন ও সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষকরা তদন্তের আহবান জানান। এছাড়াও অভিযোগ ওঠে কোটি টাকা গায়েব করেছেন অধ্যক্ষ ও তার অনুসারিরা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাদেক হোসেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুসরাত ফেরদৌসি।

পরে অভিযোগের বাহিরেও নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত শুরু করে তদন্ত কমিটি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, যতদূর জানি তদন্ত শেষ হয়েছে, তদন্ত চলাকালীন সময় নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের বেশ কয়েকটি বিষয়ে অসঙ্গতী পাওয়া যায় এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন কাগজ ও প্রমানাদি চায়, তবে সকল কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ। কিছু কাগজ তারা তদন্ত কমিটির কাছে সাবমিট করে। তিনি বলেন, বেশি কিছু বলা যাবেনা তবে তদন্তে কিছু অসঙ্গতী পাওয়া গেছে, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বিস্তারিত জানতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও তদন্ত কমিটির আহবায়ক উত্তম কুমার দাশ বলেন-নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা তদন্ত করেছি। আমি খুব দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবো। তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব ছিল তদন্ত করা আমি তদন্ত করেছি, কোনো অনিয়ম পাওয়া গেছে কী না সেটা এখন বলা সমীচীন হবেনা। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর এবিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সফর আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউএনও সাহেব তদন্ত কমিটি গঠনের আগে আমি কলেজের শিক্ষকদের দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম, সেটার প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট এসবের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কোটি টাকা গায়েবের ঘটনায় তিনি বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা, তদন্তে এসব অসঙ্গতী পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে পরে তিনি ফোন কেটে দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ
ThemeCreated By ThemesDealer.Com
x
error: কপি করা নিষেধ !
x
error: কপি করা নিষেধ !