খুলনায় নিখোঁজ সেই রহিমা বেগমকে জীবিত উদ্ধার

জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকা থেকে ‘নিখোঁজ’ বহুল আলোচিত সেই রহিমা বেগমকে জীবিত উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে খুলনার দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল উদ্ধার করে।
রহিমাকে জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুর জোনের এডিসির নেতৃত্বে দৌলতপুর থানা পুলিশ রহিমা বেগমকে জীবিত উদ্ধার করে। তাকে নিয়ে পুলিশের দলটি খুলনায় রওয়ানা দিয়েছে। খুলনায় আনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে, তিনি আসলে অপহৃত হয়েছিলেন নাকি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দৌলতপুর থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রহিমা ও তার মেয়েরা অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তিনি মূলত স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। রাত ২টার মধ্যে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার বাড়ির সামনে থেকে রহিমা বেগম নিখোঁজ হন অভিযোগে তার মেয়ে আদুরি আকতার বাদী হয়ে পরদিন দৌলতপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত ছয় জনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা এলাকায় উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহ নিজের নিখোঁজ মা রহিমা বেগম বলে ২২ আগস্ট ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। পরদিন ফুলপুর থানায় গিয়ে তিনি ছবি দেখে ও নিহতের পায়জামা দেখে ওই লাশ তার মায়ের বলে দাবি করেন মরিয়ম। তিনি লাশের ডিএনএ-এর সঙ্গে তার ডিএনএ মিলিয়ে দেখারও আবেদন করেন।
এদিকে শনিবার রাতে মরিয়ম মান্নান ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, মাকে উদ্ধারের খবর পেয়েছি। আমার থেকে খুশি এই মুহূর্তে কেউ নেই। আমি এই মুহূর্তে খুলনা যাচ্ছি।
এর আগে শনিবার দুপুরে খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করে রহিমা অপহরণ ঘটনায় গ্রেপ্তার হেলালের স্ত্রী মনিরা আকতার তাঁর স্বামীর মুক্তি দাবি করেন।
মনিরা বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমার স্বামীকে ফাঁসানোর জন্য অপহরণ নাটক সাজানো হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট রাতে রহিমা বেগম নিখোঁজের বিষয়ে কথা বলতে ডেকে নিয়ে গিয়ে পুলিশ অন্যায়ভাবে হেলালকে আটকে রেখেছে।

