Logo
শিরোনাম :
বাউসা ইউনিয়ন পরিষদকে সৌদি দূতাবাস বানিয়ে অভিনব প্রতারণা ॥ আটক ৩ বাহুবলে গাছ খাওয়ায় ছাগল আটক, এমপি কল দেয়ার পরও ছাড়েনি পুলিশ কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরঞ্জন দাশ স্ত্রীসহ নিহত গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে বঙ্গমাতা ও শেখ কামাল এর জন্মবার্ষিকী পালন নবীগঞ্জে মায়ের স্বপ্ন পূরণে হেলিকপ্টারে চড়ে বরের বাড়ি গেলেন সুরভী খোঁজ মিলছে না সিলেট ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতির এবার মাল্টার ভিসা মিলবে ঢাকা থেকেই! গ্রিসে ১৫ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশি যেভাবে পাবেন বৈধতা! নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের ভোগান্তি : চালু হবে কবে ! তুর্কি থেকে গ্রিসে অনুপ্রবেশ: দুর্ঘটনায় সিলেটের কওছর মেম্বার নিহত, আহত ৩

অবৈধ মদের ব্যবসা করে বিপুল সম্পদের মালিক আজিজ চেয়ারম্যান

অনলাইন ডেস্ক
জাগো নিউজ : মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০২২

এক সময় সাধারণ জীবন-যাপন করতেন তিনি। তরুণ বয়সে বাদাম বিক্রি করেছেন বলেও কথিত রয়েছে নিজ এলাকায়। ঢাকার বংশালে মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবেও কাজ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে যান। আমদানি-রফতানির ব্যবসার আড়ালে তিনি বহুদিন ধরে অবৈধ মদের ব্যবসা করে আসছেন। সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা ৩৭ হাজার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের পর তার হাঁড়ির খবর বেড়িয়ে আসে। অবৈধ এই বিদেশি মদ এনেছিলেন মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম। কিন্তু বিপুল পরিমাণ এই মদ জব্দের একদিন আগেই বড় ছেলে মিজানুর রহমান আশিককে নিয়ে দুবাই পালিয়ে যান তিনি। আরেক ছেলে আব্দুল আহাদ বর্তমানে সোনারগাঁও থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হঠাৎ করেই গত এক দশকে আজিজুল ইসলাম বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ায় এলাকার অনেকেই অবাক হয়ে যান। অর্থের প্রভাবে সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে বাগিয়ে নেন শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ। বাগিয়ে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদও। অবৈধ মদের ব্যবসার খবর ফাঁস হওয়ার আগ পর্যন্ত শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যও দৌড়ঝাঁপ করছিলেন।

সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম হঠাৎ বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে যাওয়ায় সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম তেজগাঁওয়ে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম, তার স্ত্রী মায়া ইসলাম, তিন ছেলে মিজানুর রহমান আশিক, আব্দুল আহাদ, আব্দুল ইহাদের নামে জমি, ফ্ল্যাট, বাড়ি, দোকান ইত্যাদি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে কিনা এবং রেজিস্ট্রি হয়ে থাকলে দলিলের সার্টিফায়েড কপি সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রীনগর এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়াও ওয়্যারহাউজ, দোকানসহ বিপুল সম্পত্তি রয়েছে চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের। রাজধানী ঢাকার ওয়ারীর ৪৭/২ বনগ্রাম লেনে ১২ তলা একটি ভবন রয়েছে। এছাড়া একই এলাকায় সাত তলা আরেকটি ভবনের মালিকও আজিজ চেয়ারম্যান। এছাড়া ২১৬ নম্বর বংশাল রোডে গোল্ডেন অটো হাউজ নামে একটি মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলারের স্পেয়ার পার্টসের হোলসেল দোকান রয়েছে। এসব ছাড়াও বংশাল এলাকায় তার আরও দোকান ও রাজধানীর উপকণ্ঠে একাধিক প্লট রয়েছে। দেশের বাইরে দুবাইয়ে তিনি মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। মূলত দুবাই প্রবাসী নাসির উদ্দিনের মাধ্যমেই তিনি অবৈধ মদের ব্যবসা করতেন।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থও রয়েছে। অনুসন্ধান শেষে পুরো বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এ সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলা হলে আরও বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।

এদিকে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, দেশের সবচেয়ে বৃহৎ এই অবৈধ মদের চালান আটকের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি নিজেরা তদন্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে র‌্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি র‌্যাব সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। র‌্যাব সদর দফতর থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, অবৈধ মদের ব্যবসা করে বিপুল সম্পদ অর্জন করার বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও জানাবেন।

র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, মামলাটি এখন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানা পুলিশ তদন্ত করলেও অবৈধ মদের ব্যবসার এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে র‌্যাবও অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে মদের চালানটি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের যে সিঅ্যান্ডএফ ভুয়া তথ্য ও স্ক্যানিং ছাড়া বের করে আনতে সহায়তা করেছিল, তাদের ধরার জন্য অভিযান চলছে। জাফর নামে এক ব্যক্তি তার সহযোগীদের নিয়ে অবৈধ এই মদের চালানটি কাস্টমস থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বের করতে সহায়তা করেন। অবৈধ মদের চালান জব্দ হওয়ার পর থেকে জাফর ও তার সহযোগীরা গা-ঢাকা দিয়েছেন।

সূত্র :- বাংলা ট্রিবিউন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

অন্যান্য সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com
x
error: কপি করা নিষেধ !
x
error: কপি করা নিষেধ !